বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর পরও রাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। ভোটে পরাজয়ের পর ব্যক্তিগত সফরে গেলেও সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। এবার থাইল্যান্ড থেকে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় কিছু ছুটির ছবি পোস্ট করতেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন রাজ। ছবিতে দেখা যায়, সমুদ্রের ধারে একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তারকা দম্পতি। দুজনের পরনেই ছিল কালো রঙের পোশাক। তবে নেটপাড়ার নজর গিয়ে পড়ে রাজের পায়ের সাদা রঙের চটির দিকে। সেই ছবি সামনে আসতেই কমেন্ট বক্সে শুরু হয় একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। অনেকেই পুরনো ঘটনাকে টেনে এনে নতুন করে ট্রোল করতে শুরু করেন।
এর আগে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন রাজ চক্রবর্তীকে বড় ধাক্কা খেতে হয়। বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী রাজ। ৪ মে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় বিজেপি সমর্থকদের একাংশ তাঁকে দেখে “চোর”, “চোর” বলে স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, তাঁর দিকে কাদা ছোড়ার ঘটনাও সামনে আসে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিয়েই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান রাজ। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছিল। ভোটের ফল ঘোষণার পর সেই ঘটনার ভিডিও এবং ছবি সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে শুভশ্রী একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। সেখানে তিনি রাজকে “সুপারহিরো” বলে উল্লেখ করেন। তারপরই ৮ বছরের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে দুজনে থাইল্যান্ডে যান। সেখানকার সমুদ্র সৈকত থেকে শুভশ্রী একাধিক ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে কখনও তাঁদের একসঙ্গে বসে থাকতে, কখনও নিরিবিলি সময় কাটাতে দেখা যায়। দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্তের সেই ছবি অনেক অনুরাগী পছন্দ করলেও সমালোচনার সুরও কম ছিল না। বিশেষ করে রাজের পোশাক ও চটি ঘিরে মন্তব্যের ঝড় ওঠে।
একজন নেটিজেন লেখেন, “সেই সাদা চটি!” অন্য একজন লেখেন, “একটা কাদা কাদা ব্যাপার আছে কিন্তু।” তৃতীয় একজনের মন্তব্য, “টাকা চুরি করে ভোটে হেরে ঘুরতে গিয়েছে।” আরেকজন সরাসরি লেখেন, “কাদাখেকো”। কেউ আবার তাঁকে “কাদা ম্যান” বলেও কটাক্ষ করেন। শুধু তাই নয়, রাজের আগের কিছু মন্তব্য টেনে এনে একজন লেখেন, “দাদা হেরে গিয়েছেন বলে আর এলাকায় যাচ্ছেন না কেন? আপনার তো এখনও মানুষের পাশে থাকার কথা। হারজিত তো লেগেই থাকে। রাজনীতি কোনও ছেলে খেলা নয়, মুড হলো রাজনীতি করতে চলে এলাম।” ফলে ছুটির ছবিও শেষ পর্যন্ত বিতর্ক এড়াতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ “আমি তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না… আর যেন কোনও মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়” রাহুলের মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়ে মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগঘন আর্তি! অভিনয় জগৎ থেকে সাধারণ কর্মক্ষেত্র, সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে সমাজকে কি বললেন তিনি?
প্রসঙ্গত, নির্বাচনে হারের পর রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান না। নিজের পুরনো পেশা অর্থাৎ সিনেমা পরিচালনাতেই ফের মন দিতে চান বলে জানান পরিচালক। রাজ লেখেন, “রাজনীতি আমার জন্য নয়, সিনেমা পরিচালনা করেই আমি মানুষকে আনন্দ দিতে চাই।” পাশাপাশি বাংলায় ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারকেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরে এসে আবার পুরোপুরি বিনোদন জগতেই ফিরতে চাইছেন রাজ, এমনটাই স্পষ্ট তাঁর বক্তব্যে।
View this post on Instagram






